ব্যবসায়ীকে ফেনসিডিল দিয়ে জিম্মি করে পুলিশের টাকা আদায়!
নওগাঁর মান্দা উপজেলার চৌবাড়িয়া বাজারে এক ব্যবসায়ীর দোকানে ফেনসিডিল দিয়ে জিম্মি করে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর নাম হারুন-অর রশীদ ওরফে সম্রাট। তিনি রাজশাহী জেলার সীমান্ত এলাকায় কোরিয়া ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির ব্যবস্থাপক।
ব্যবসায়ী সম্রাটের অভিযোগ, তানোর থানার এএসআই পলাশ নাটক সাজিয়ে তার কাছ থেকে জোর করে ৫০ হাজার টাকা আদায় করেছেন।
তিনি বলেন, ‘শুক্রবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে আমার মোবাইলে কল করে বলেন, আমি তানোর থানার ওসি বলছি, তুই কোথায়? এর এক দুই মিনিট পর তিনি আমার টিভিএস থ্রি-হুইলার শো-রুমে ফেনডিলসহ প্রবেশ করে আমার টেবিলের উপর রেখে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বলে, তুই ফেনসিডিল খাস। তোকে নিয়ে যাব, না হলে তুই এক লাখ টাকা দে। আমাকে চাপের মুখে ফেলে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এ ঘটনা আমার সিসি ফুটেজে ধারণ করা আছে।’
সরেজমিনে সিসি ফুটেজে দেখা যায়, এএসআই পলাশ রাত সাড়ে ৮ টা দিকে টিভিএস থ্রি-হুইলার শো-রুমের বাউন্ডারির ভেতরে প্রবেশ করে গেটের বাইরে থেকে হাত বাড়িয়ে এক বোতল ফেনসিডিল হাতে নিয়ে শো-রুমে প্রবেশ করেন। এরপর টেবিলের উপর রেখে গেটে পুলিশ প্রটেকশন দিয়ে শো-রুম মালিক সম্রাটকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এক লাখ টাকা দাবি করেন।
পরে এএসআই পলাশ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে শো-রুম মালিককে বলেন, তোর কাছ থেকে আমি কোনো টাকা নেইনি, আমি চা-পান করে চলে গেলাম, এ ব্যাপারে তুই কাউকে কিছু বলতে পারবি না মর্মে শো-রুম মালিকের ব্যবহৃত প্যাড ও সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেন। এ ব্যাপারে যেন কাউকে কিছু না বলেন সে ব্যাপারে হুঁশিয়ারি ও হুমকি দিয়ে জোর করে এএসআই পলাশ তার মোবাইলে শো-রুম মালিক সম্রাটের স্বীকারোক্তিও নেন। স্বীকারোক্তি সে ভিডিও ধারণ করে তা রেকর্ড করে রাখেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শো-রুম মালিক সম্রাট ব্যাপক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পুলিশের এ রকম কর্মকাণ্ডে তিনি বিস্মিত ও হতবাক। তিনি এ ব্যাপারে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছেন।
এ ব্যাপারে তানোর থানার ওসি রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা।